রবিবার ১৪ জুন ২০২৬
Online Edition

উদ্বেগ এবং ক্ষোভের সভ্যতা

দ্বন্দ্ব-সংঘাতমুক্ত পৃথিবী আমাদের কাম্য। শান্তিপ্রিয় মানুষ শুধু স্বদেশে নয়; অন্য দেশেও চায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। আমরা জানি, মহাবিশ্বের ছোট্ট একটি গ্রহ আমাদের প্রিয় এই পৃথিবী। ছোট্ট একটি পৃথিবীতে কত দেশ, কত রকম শাসন। এই পৃথিবীতে আমরা রাজা-বাদশা দেখেছি, সম্রাট দেখেছি। দেখেছি উপনিবেশ এবং আগ্রাসনও। নানা রকমফেরের এই পৃথিবীতে আমরা শক্তিমানদের নানা খেলা দেখেছি। যারা খেলার শিকার হয়েছেন, তাদের দুঃখের রজনী এখনও কাটেনি। ফিলিস্তিনীদের দুঃখের রজনী কেটেছে কী? ইংরেজরা ভারতে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করেছিল। এর বিরুদ্ধে মানুষ শুরু করেছিল স্বাধীনতা সংগ্রাম। ফলে তাদের ছাড়তে হয় ভারত। তবে যাওয়ার সময় তারা ভারতে ভাগবাটোয়ারার একটি দায়িত্ব পালন করেছিল। সাম্রাজ্যবাদীদের ভাগবাটোয়ারায় খুঁত থাকাটাই স্বাভাবিক। এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। তবে কাশ্মীরের সংকটটা এখনও কাটেনি। এ সংকটের কারণে সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে গোলাগুলী তো লেগেই আছে। আর ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এখনো ফিরে আসেনি শান্তি। কাশ্মীরে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভারতের পূর্ববর্তী শাসকরা সেখানে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিলেন, দিয়েছিলেন স্বায়ত্তশাসন। কিন্তু সম্প্রতি নরেন্দ্রমোদি সরকার এ সবকিছু বাতিল করে দিয়েছে। ফলে কাশ্মীরে সৃষ্টি হয়েছে এক নতুন পরিস্থিতি।
ভারত সরকার ২০১৯ সালে কাশ্মীরে স্বায়ত্তশাসন বাতিল এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন আইন চালুর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখ্য যে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সংখ্যালঘু ইস্যু ও ধর্ম বিশ্বাসের স্বাধীনতা বিষয়ক দুই বিশেষ প্রতিনিধি একটি বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মীরে স্বায়ত্তশাসন বাতিল ও নতুন আইন কার্যকরের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে রাজনীতিতে মুসলমানদের অংশগ্রহণ কমে যাবে। চাকরি ও ভূমির মালিকানা থেকে তারা বঞ্চিত হবে বলেও আশংকা প্রকাশ করা হয় বিবৃতিতে। ভারত সরকার অবশ্য এই বিবৃতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছে। তাদের দাবি, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের দেয়া বিবৃতিটি নিরপেক্ষ নয়। বিদেশী প্রতিনিধিদের কাশ্মীর সফরকে মাথায় রেখে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন উদ্বেগ জানানো হয়েছে।
ভারত সরকার তাদের নিজেদের স্বার্থে যা বলার তাই বলেছে, এটাই স্বাভাবিক। তবে প্রশ্ন জাগে, উপনিবেশ আমলে কিংবা এর আগে-পরে কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ তাদের মানবিক অধিকার কতটা ভোগ করতে সমর্থ হয়েছে? ধর্ম-বর্ণের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মানুষ এখনো বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। আমেরিকার মতো দেশেও ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ এখনো স্পষ্ট। অর্থাৎ আমরা এখনো প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে পারিনি, ফলে গড়ে ওঠেনি মানবিক সমাজ ও বিশ্ব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ